আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন কিভাবে ?

আসালামু আলাইকুম । সবাই কেমন আছেন , আশা করছি নিশ্চয়ই ভাল আছেন । আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি এবং কিভাবে আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন সেই বিষয়ে । চলুন তাহলে আমাদের মুল পোস্টে যাওয়া যাক ।

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং কি ?

“আমাজন.কম” বিশ্বের নামকরা এবং জনকপ্রিয় একটি মার্কেটপ্লেস । আমাজন ছোট মার্কেটারদের জন্য একটি সুযোগ করে দিয়েছে তাদের এফিলিয়েট প্রোগ্রামের মাধ্যমে অনলাইনে মার্কেটিং করে ইনকাম করার । আমাজন এফিলিয়েট প্রোগ্রাম এর জন্য জয়েন করে তাদের দেয়া স্পেশাল লিংকের মাধ্যমে আমাজানের প্রোডাক্ট সেল করলে আমাজন আপনাকে প্রোডাক্টটি সেল করার জন্য আপনাকে একটি নির্দিষ্ট পরিমান কমিশন পে করবে । এটিই আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং ।

 

কিভাবে আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন ?

আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাইলে আপনাকে আমাজন এসোসিয়েট প্রোগ্রামে জয়েন করতে হবে । জয়েন করতে এই লিংক এ ক্লিক করুন- https://affiliate-program.amazon.com/

আমাজন এসোসিয়েটে সাইনআপ করার পুর্বে মনে রাখবেন আপনাকে ১৮০ দিনের মধ্যে আমাজন এফিলিয়েট লিংকের মাধ্যমে সেল করতে হবে নইলে একাউন্ট ব্যান হয়ে যাবে । তবে টেনশনের কিছু নেই আপনি আবার সাইনআপ করতে পারবেন নতুন আরেকটি একাউন্টের জন্য যদি একটি ব্যান হয়ে যায় ।

এখন আমরা জানবো কিভাবে করে ওয়েবসাইট-এর মাধ্যমে আমাজন এফিলিয়েট করে ইনকাম করতে পারি । আমাজন এফিলিয়েট ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করতে যে স্টেপ গুলো ফলো করবেন নিচে বিস্তারিত আলোচনা করবো । তবে একটি আমাজন এফিলিয়েট ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করার পুর্বে যে বিষয় গুলো মাথায় রাখবেন জানতে আমাদের পুর্বের লিখা আর্টিকেলটি পরে আসতে পারেন-

নিশ সাইট শুরু করতে যাচ্ছেন? এই ৫টি ব্যাপার মাথায় রাখুন!

স্টেপ ১: নিশ সিলেক্ট করুন

ওয়েবসাইট ক্রিয়েট করার পুর্বে আপনাকে নিশ সিলেক্ট করতে হবে । নিশ এমন সিলেক্ট করবেন যে বিষয় নিয়ে আপনাকে লিখতে ভালো লাগবে । কিভাবে নিশ আইডিয়া পাবেন জানতে পড়ে আসুন আমাদের এই আর্টিকেলটি- নিস আইডিয়া পাবেন কিভাবে ?

 

স্টেপ ২: কিওয়ার্ড  রিসার্চ

নিশ সিলেকশন এর পরের ধাপ হচ্ছে কিওয়ার্ড রিসার্চ করা । কিওয়ার্ড অনেক ইম্পরট্যান্ট । আপনি যদি ভুল কিওয়ার্ড সিলেক্ট করেন তাহলে পরবর্তীতে আপনাকে অনেক ভুগান্তিতে পড়তে হইতে পারে । তাই কিওয়ার্ড ভালো ভাবে রিসার্চ করে সিলেক্ট করবেন । কিভাবে একটি নিশ ওয়েবসাইটের জন্য ভালো কিওয়ার্ড খুঁজে পাবেন জানতে পড়ে আসুন আমাদের এই আর্টিকেলটি- নিশ সাইটের জন্যে কিওয়ার্ড রিসার্স করবেন কিভাবে ?

 

স্টেপ ৩ ডোমেইন হোস্টিং 

নিশ ওয়েবসাইট এর জন্য ডোমেইন নামটি কিওয়ার্ড রিচ হইলে বেটার হয় । তাহলে আপনার ওয়েবসাইট ভিজিট করার পর্বেই কোথাও লিংক পেলেই আপনার ওয়েবসাইটে কি প্রোডাক্ট রয়েছে কি রিলেটেড ভিজিটর বুঝে যাবে । কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন জানতে পড়ে আসুন আমাদের এই আর্টিকেলটি- কিভাবে ডোমেইন হোস্টিং কিনবেন ?

 

স্টেপ ৪: ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ

ডোমেইন হোস্টিং কিনা হয়ে গেলে আপনাকে ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ দিতে হবে কিন্তু জানেন না কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস সেটআপ দিবেন ? তাহলে পড়ে আসুন আমাদের এই আর্টিকেলটি- কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করবেন ?

 

স্টেপ ৫: থিম ইন্স্টল্

আমাজন এফিলিয়েট করার জন্য যে থিম গুলো ভালো সে গুলোর মধ্যে একটি কিনে আপনার ওয়েবসাইটে-এ সেটআপ করে দিন । আর কিভাবে থিম ইন্স্টল্ করতে হয় ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে-এ জানতে পড়ে আসুন আমাদের এই আর্টিকেলটি- কিভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইটে থিম ইন্সটল করবেন ?

তারপর অবশ্যই এসএসএল সেটআপ করে নিবেন ।

আপনার ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ডেভেলপ করে মেনু , ম্যান্ডেটরি পেজ যেমন: এফিলিয়েট ডিসক্লোজার , এবাউট , কন্টাক্ট , প্রাইভেসি পলিসি পেজ এইসব অ্যাড করে নিবেন ।

 

স্টেপ ৬: প্রোডাক্ট সিলেক্টশন

ওয়েবসাইট রেডী হয়ে যাওয়ার পর আপনি যে নিশ সিলেক্ট করেছেন সেই নিশ রিলেটেড প্রোডাক্ট আমাজন থেকে সিলেক্ট করতে হবে । লক্ষ্য রাখবেন এমন প্রোডাক্ট সিলেক্ট করবেন যে প্রোডাক্টটির মিনিমাম ১০ টি রিভিউ রয়েছে ।

 

স্টেপ ৭:আর্টিকেল রাইটিং

প্রোডাক্ট সিলেক্ট করার পর অন পেজ অপ্টিমাইজ করে প্রোডাক্টটির জন্য অবশ্যই উনিক আর্টিকেল লিখতে হবে । কোনো ভাবেই কপি আর্টিকেল লিখা যাবে না সেই দিকে লক্ষ্য রাখবেন । নিশ ওয়েবসাইট এর জন্য কিভাবে আর্টিকেল লিখবেন জানতে পড়ে আসতে পারেন আমাদের এই আর্টিকেলটি- ব্লগ বা নিশ সাইট-এ কন্টেন্ট লিখার কৌশল

 

স্টেপ ৮: ওয়ার্ড সংখ্যা

আপনার ওয়েবসাইটটির জন্য অফ পেজ শুরু করার পুর্বে যদি আপনি ৫০ হাজার ওয়ার্ড লিখতে চান , তাহলে মিনিমাম ২০ হাজার ওয়ার্ড ইনফোরমেটিভ আর্টিকেলের জন্য রাখবেন আর বাকি গুলো বায়িং কিওয়ার্ড দিয়ে লিখবেন । আর আপনার টার্গেট করা কিওয়ার্ড কম্পিটিটররা যত ওয়ার্ডের আর্টিকেল লিখবে একটি পোস্টের জন্য আপনি অবশ্যই  তার থেকে মিনিমাম ২০০ ওয়ার্ড বেশি লিখতে চেষ্টা করবেন ।

 

স্টেপ ৯: অন পেজ অডিট

আপনার ৫০ হাজার ওয়ার্ড কমপ্লেট করার পর ভালোভাবে অন পেজ অডিট করে নিবেন । কিভাবে অন পেজ অডিট করবেন জানতে আমাদের  এই আর্টিকেলটি পড়ে আসুন- কিভাবে আপনার ওয়েবসাইট এর অন পেজ অডিট করবেন ?

 

স্টেপ ১০: অফ পেজ বা প্রোমোটিং

আপনার ওয়েবসাইটটির জন্য যদি উপরের দেয়া স্টেপ গুলো কমপ্লেট করে থাকেন , তাহলে এখন সময় অফ পেজ করার বা বিভিন্নভাবে অনলাইনে আপনার ওয়েবসাইট-এর লিংক প্রমোট করে ওয়েবসাইট রাঙ্ক-এ নিয়ে আসতে হবে । আপনার ওয়েবসাইটটি রাঙ্ক করলে ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট-এ আসবে প্রোডাক্ট রিভিউ পড়ে যদি তারা কিনতে ইন্টারেস্টেড হয় তাহলে আপনার আর্টিকেলে দেয়া আপনার আমাজন এফিলিয়েট লিংক দিয়ে আমাজোনে গিয়া প্রোডাক্টটি বাই করলে আমাজন আপনাকে কমিশন পে করবে ।

 

আপনার যেকোন প্রশ্ন, সমস্যা, অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে ২ ভাবে মেইল ও কমেন্ট এর মাধ্যমে । কমেন্ট এর মাধ্যমে হেল্প চাইলে নিচে কমেন্ট করুন । মেইল এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে চাইলে আমাদের কনটাক্ট আস পেজে যোগাযোগ করতে পারেন ।আজ এই পর্যন্তই । আগামী কোন আর্টিকেলে আপনাদের সামনে হাজির হব নতুন কোন এসইও ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর  নতুন কোন বিষয় নিয়ে । আল্লাহ হাফেজ ।

2 thoughts on “আমাজন এফিলিয়েট মার্কেটিং শুরু করবেন কিভাবে ?

Leave a Reply