কেন এসইও শিখবেন ?

আসালামু আলাইকুম । সবাই কেমন আছেন , আশা করছি নিশ্চয়ই ভাল আছেন । আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব কেন আপনি এসইও শিখবেন  সেই বিষয়ে । চলুন তাহলে আমাদের মুল পোস্টে যাওয়া যাক ।

এসইও কি তা আমার পুর্বের একটি পোস্টে আলোচনা করেছি । যদি আপনি না জানেন এসইও কি, অনুগ্গ্রহ করে আমাদের পুর্বের একটি আর্টিকেল এসইও কি, সেটি পরে নিবেন তাহলে আপনার এই আর্টিকেল টি বুঝতে সুবিধে হবে । এসইও কি জানতে এই লিঙ্ক ক্লিক করুন – https://bn.nshamim.com/what-is-seo/

এসইও মূলত অনলাইন মার্কেটিং এর অনেক ওয়ের মধ্যে একটি । পণ্যের ওয়েবসাইট  কাস্টমেরার সামনে নিয়ে আসার জন্য ওয়েবসাইটটির এসইও করা হয় । এটি একটি জনকপ্রিয় মাধ্যম বিসনেস ওয়েবসাইট টি কাস্টমার এর সামনে তুলে ধরার , দিন দিন এই সেক্টরে কম্পেটিশন বেড়েই চলেছে ।  অনলাইন মার্কেটিংয়ে এর গুরুত্ব অপরিসীম । আর কেন অনলাইন মার্কেটিংয়ে এর গুরুত্ব এতো বেশি এবং কেন আপনি এসইও শিখবেন ? চলুন জেনে নেয়-

 

১। টার্গেটেড অডিয়েন্স পাওয়ার জন্য

সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যে কাস্টমার গুলো আপনার ওয়েবসাইটি ভিজিট করে সেই কাস্টমার গুলো আপনার প্রডাক্টির টার্গেটেড কাস্টমার,  কেন ? আপনি যখন সার্চ ইঞ্জিনে কিছু সার্চ করেন আপনি তখন বিষয়টি সম্পর্কে সিরিয়াসলি ইন্টারেস্টেড তাই সার্চ করেন । ঠিক সেই রকম যে ভিজিটর গুলো সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে কিছু খোঁজ করে কিনার উদ্দেশে বা জানার উদ্দেশে, তারা আসলেই প্রডাক্টির সম্পর্কে সিরিয়াস । তাই সঠিক ইনফরমেশন দিতে পারলেই আপনার সেল বৃদ্ধির সম্ভবনা আছে , এটি করতে আপনাকে সাহায্য করবে মানসম্মত কন্টেন্ট ।

 

২। এসইও সেল বৃদ্ধি করে

আপনি অনলাইনে অনেক ভাবে মার্কেটিং করছেন কিন্তু আপনার ওয়েবসাইট টির এসইও করেন নাই ,  অথচ এসইও করার মাধ্যমে আপনার সাইট টির যে সেল গুলো আসতো আপনি কিন্তু লস করছেন । তাই আপনার উচিত হবে আপনার ওয়েবসাইটটির এসইওর মাধ্যমে আপনার প্রোডাক্ট গুলোর সেল বৃদ্ধি করা ।

 

৩। মার্কেটিং কস্ট কমায়

প্রোডাক্টের মার্কেটিং করার অনেক ওয়ে আছে কিন্তু এসইও টা অনেক সহজ এবং অন্য মার্কেটিং পন্থার তুলোনায় অনেক কম কাস্টিংয়েই করা যায় ওয়েবসাইটের এসইও ।

 

৪। অর্গানিক এসইও একটি ফ্রি এডভার্টাইজমেন্ট প্লাটফর্ম

অর্গানিক এসইওর মাধ্যমে ওয়েবসাইটের মার্কেটিং করলে কোনো কস্টিং নেয় কিন্তু তার জন্য আপনাকে নিজে এসইও এক্সপার্ট হইতে হবে অন্যথায় শুধু মাত্র একজন এসইও এক্সপার্ট হাইয়ার করলেই হবে । সেই জন্য যে কস্টিং টা হবে, আপনি আপনার ওয়েবসাইট টির এসইও করলে যে ফল পাবেন সেই তুলোনায় কিছুই নয় ।

 

৫। ২৪ ঘণ্টাই প্রমোশন

এসইও করে কোনো ওয়েবসাইট রাঙ্ক করলে আপনার প্রোডাক্ট গুলোর জন্য এডভার্টাইজমেন্ট ২৪ ঘন্টাই হচ্ছে । কারণ ধরুন আপনি টিভিতে অ্যাড দিয়ে মার্কেটিং করছেন কিন্তু চ্যানেল গুলো কি আপনার প্রোডাক্ট টির অ্যাড সবসমই অন করে রাখবে ? কখনোই নয় । হয়তো  এমন সময় অ্যাড আসলো যে সময় আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স টিভির সামনে নেয় কিন্তু এসইও করে ওয়েবসাইট রাঙ্ক এ আসলে আপনার টার্গেটেড অডিয়েন্স যখন চাইবে আপনার ওয়েবসাইট এ আসতে পারবে । আপনাকে তাদের সামনে আপনার প্রোডাক্ট নিয়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেয় , কাস্টমার নিজেই আপনার ওয়েবসাইট এর মাধ্যমে প্রোডাক্ট ২৪ ঘন্টা যখন ইচ্ছে দেখতে পারবে ।

 

৬। এসইও কাস্টমার এর মধ্যে বিশ্বাস স্থাপন করে

ভিজিটর গুগল করে ইনফরমেশন জেনে নেয় কারণ ভিজিটর গুগল কে বিশসাস করে । আর এসইওর মাধ্যমে গুগল এর ১স্ট পেজে আপনার ওয়েবসাইট টি আছে মানে ভিজিটর আপনার ওয়েবসাইট বিশ্বস্ত মনে করবে । এইভাবে আপনি আপনার কাস্টমারের বিশ্বাস অর্জন করতে পারছেন ।

 

৭। এসইও লং টার্ম স্ট্রেটেজি

এসইওর মাধ্যমে ওয়েবসাইট রাঙ্ক এ নিয়ে আসতে মিনিমাম ২ অথবা ৩ মানথ সময় লাগে কিন্তু একবার ওয়েবসাইট রাঙ্ক এ আসলে অনেক দিন টোপে থাকতে পারবেন । যতদিন না আপনার কম্পিটিটর আপনাকে আউট রাঙ্ক করছে ।

 

৮। এসইওর মাধ্যমে আপনার ব্র্যান্ড পরিচিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে

এসইওর মাধ্যমে আপনার ওয়েবসাইট এর যত ভিজিটর বৃদ্ধি পাচ্ছে আপনি আপনার ব্রান্ডের ততো   বেশি পরিচিতির প্রসার করতে পারছেন । আরো বেশি মানুষ আপনার ব্র্যান্ড এর সম্পর্কে জানতে পারছে ।

 

৯। অর্গানিক এসইও পেইডের তুলোনায় বেশি কার্যকরী

আপনি অর্গানিক এসইওর মাধ্যমে ৯০% বেশি ভিজিটর পাচ্ছেন । কারণ ৯০% ভিজিটর পেইড এডভার্টাইজমেন্ট বা পেইড এসইও লিংক গুলোতে ক্লিক করে না ।

 

১০। এসইও ওয়েবসাইটের রেফারাল বৃদ্ধি করে

এসইওর মাধ্যমে ওয়েবসাইট রাঙ্ক হইলে যে ভিজিটর গুলো পাচ্ছেন , ভিজিটর গুলো যদি সন্তুষ্ট হয় প্রোডাক্ট বা সার্ভিস পেয়ে তাহলে , তারা তাদের ফ্রেন্ড বা  পরিচিতদের আপনার ওয়েবসাইটটি সাজেস্ট করবে । এতে করে আপনার ওয়েবসাইটের রেফারাল ভিজিটর বৃদ্ধি পাবে ।

 

১১। এসইও সিস্টেম ক্লিয়ার ধারণা দেয় সবকিছুর

বিভিন্ন টুলসের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার ওয়েবসাইটের ভিজিটর কই থেকে আসছে , কোন কীওয়ার্ড ভালো কাজ করছে , আপনার রাঙ্ক পজিশন ,  কোনভার্সন কেমন, এসইওর মাধ্যমে ওয়েবসাইট এর এবং ভিজিটর সম্পর্কে ক্লিয়ার ধারণা পাওয়া যায় । যা পরবর্তীতে আরো ভালো ভাবে স্ট্রেটেজি ক্রিয়েট করতে হেল্প করে ।

 

১২। এসইও অফলাইন সেল বৃদ্ধি করে

আপনার সার্ভিস বা প্রোডাক্ট রিলেটেড আর্টিকেল পোস্ট করে সার্চ ইঞ্জিন এ রাঙ্ক করতে পারলে মানুষ আপনার আর্টিকেল থেকে উপকৃত হবে এবং আপনার বিজনেস সম্পর্কে ডিটেলস জানবে , ইভেন আপনার অফলাইন স্টোর এড্রেসটিও । এতে আপনার অফলাইন স্টোর থেকেও সে শপিং করতে ইন্টারেস্টেড হবে । এমন ভাবে আপনার স্টোর বা অফলাইন সেলও বৃদ্ধি পাবে ।

 

১৩। মার্কেটিং স্ট্রেটেজি আপডেট হয়েছে

এখন সব কিছু দিন দিন আপডেট হচ্ছে তার সাথে সাথে মার্কেটিং স্ট্রেটেজিও । তাই আপনাকেও আপডেট থাকতে হবে বিজনেসে টিকে থাকতে চাইলে । আপনার কম্পিটিটর যদি অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমেও সেল বৃদ্ধি করে , পরিচিতি বৃদ্ধি করে আর আপনে শুধু অফলাইন স্টোর নিয়ে পরে থাকেন তাহলে তো আপনার কম্পেটিটর আপনার থেকে সামনে এগিয়ে যাবে ।

 

১৪। শুরুতেই বড় বিজনেসকে টক্কর

অফলাইনে যারা অলরেডি তাদের বিজনেস এস্টাব্লিশ করে ফেলেছে তাদের টক্কর দেয়া অনেক টাফ কিন্তু অনলাইন এ লো কম্পেটেটিভ কীওয়ার্ড টার্গেট করে খুব সহজেই  এস্টাব্লিশড বিজনেসকেও টক্কর দেয়া সম্ভব ।

 

১৫। ইমেইল নিউজলেটার

এসইওর মাধ্যমে যে অর্গানিক ভিজিটর পাওয়া যায় তাদের আপনি আবার আপনার ওয়েবসাইটে ফেরে নিয়ে আসতে পারেন । তাদের জন্য ইমেইল নিউজলেটারের সাইনআপ ফর্ম অপশন রেখে । ভিজিটর যদি সাইনআপ করে তাদের ইমেইলে নিউজলেটার দিয়ে ওই ভিজিটর গুলোকে আবার আপনার ওয়েবসাইটে ফিরে নিয়ে আসতে পারেন এবং এতে সেলও বৃদ্ধি পাবে ।

 

১৬। আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার বৃদ্ধি

আপনার বিজনেস ওয়েবসাইট যদি রাঙ্ক এ আসে আর আপনার ওয়েবসাইটিতে যদি আপনার সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল গুলো শেয়ার করেন , এতে আপনার সোশ্যাল মিডিয়া ফলোয়ার বৃদ্ধি পাবে এবং বিজনেসম্যান/বিজনেসওমেন হিসেবে আপনার পরিচিতি বারবে ।

 

১৭। কোনো বড় ডিগ্রী প্রয়োজন নেয়

এসইও এতো বড় একটি ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু এটি শিক্ষার জন্য না আপনাকে কোনো বড় প্রতিষ্টানে স্টাডি করতে হবে ,  না পর্বের কোনো বড় ডিগ্রীর প্রয়োজন আছে এই ইন্ডাস্ট্রিতে আসবার জন্য । এমনকি আপনি ঘরে বসেও শিখতে পারেন । অনলাইনে   এমন অনেক ওয়েবসাইট রয়েছে যেগুলো থেকে রেগুলার স্টাডি করে শিখতে পারেন । ওয়েবসাইট গুলোর নাম জানতে চাইলে এই লিঙ্ক ক্লিক করুন-

 

১৮। ফ্রীল্যানসিং

আপনি এসইও শেখে ফ্রীল্যানসিং করতে পারেন । যা একটি মুক্ত পেশা ।

 

১৯। আপনার এসইও স্কিলই আপনাকে কাজের সন্ধান দেবে

আপনি ফ্রীল্যানসিং শিখেছেন ধরুন এসইও , ওয়েব ডেভেলোপমেন্ট , গ্রাফিক্স ইত্যাদি ইত্যাদি । সো কোনো মার্কেটপ্লেস এ গিয়া না ঘুরে আপনার নিজের নামের একটি ওয়েবসাইট বানিয়ে ফেলুন । আপনি কি কি সার্ভিস  দেবেন সেগুলো দিয়ে সার্ভিস পেজটি সাজিয়ে তারপর সাইটটির এসইও করে গুগল এর ১স্ট পেজে এনে দেখুন ম্যাজিক!

 

২০। কাস্টমারের সাথে রিলেশন বিল্ডআপ

এসইও করে ওয়েবসাইট রাঙ্কয়ে আসার কাস্টমার শুধু সেলস পেজ থেকে কিনছে না , ব্লগ পেজের মধ্যমে ভালুয়েবেল কন্টেন্ট দিয়ে তাদের সাথে মজবুত রেলশন বিল্ডআপ হচ্ছে ।

 

ডিজিটাল মার্কেটিংয়ে এসইওর গরুত্ব শুধুএ ই ২০টি কারণ দিয়ে শেষ করা যাবে না আর এই জন্যই এসইও ইন্ডাষ্ট্রির মূল্য ৬৫ বিলিয়ন ডলার  । যদি অনলাইনে টিকে থাকতে চান এসইওর প্রয়োজনতা অপরিসীম । এসইও শিখে নিজের পার্সোনাল বিজনেস এর জন্য কাজ করতে পারেন , আবার অন্যের বিজনেসের জন্য কাজ করেও আয় করতে পারেন ।

আপনার যেকোন প্রশ্ন, সমস্যা, অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে ২ ভাবে মেইল ও কমেন্ট এর মাধ্যমে । কমেন্ট এর মাধ্যমে হেল্প চাইলে নিচে কমেন্ট করুন । মেইল এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে চাইলে আমাদের কনটাক্ট আস পেজে যোগাযোগ করতে পারেন ।

আজ এই পর্যন্তই । আগামী কোন আর্টিকেলে আপনাদের সামনে হাজির হব নতুন কোন এসইও ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর  নতুন কোন বিষয় নিয়ে । আল্লাহ হাফেজ ।

Leave a Reply