অনলাইনে যারা কাজ করছেন তাদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার ১৫ টি টিপস

আসালামু আলাইকুম । সবাই কেমন আছেন , আশা করছি নিশ্চয়ই ভাল আছেন । আজকে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করব কিভাবে করে অনলাইনের এই ব্যাস্ত প্রফেশনে নিজের শারীরিক এবং মানসিক কেয়ার নিবেন । চলুন তাহলে আমাদের মুল পোস্টে যাওয়া যাক ।

অনলাইনে যারা কাজ করছেন তাদের লাইফস্টাইল অনেক ব্যাস্ততায় ভরা , প্রতিযোগিতা পুর্ণ এবং কাজ থেকে ফ্রি টাইম বের করা অনেক টাফ কিন্তু এর মাঝেও সময় বের করে নিজের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের কেয়ার নিতে ভুলবেন না । অন্যথায় অসুস্থ হয়ে গেলে তো নিজেও খারাপ থাকবেন কাজ করাও পসিবল হবে না । তাই মেন্টালি এবং ফিজিক্যালি ফিট থাকার জন্য নিজের যত্ন নিয়া জরুরি । তাহলে চলুন জেনে নেয় কিভাবে করে এই ব্যাস্ত লাইফস্টাইল-এ নিজের কেয়ার নিবেন-

 

১. কাজের ফাঁকে ফাঁকে ব্রেক নিন

ফ্রীলান্সার হিসেবে আমাদের লং টাইম ধরে পিসিতে কাজ করতে হয় ,  লং টাইম ধরে এক জায়গায় বসে থাকার কারণে কোমর এর বেথা হইতে পারে তাই আপনার উচিত হবে প্রত্যেক ৩০ মিনিট পর পর একটা ছোট ছোট ব্রেক নিন  ।   তাহলে আপনার কাজের মনোযোগও বাড়বে ।

 

২. অনলাইনে বা অফলিনে হেল্প নেটওয়ার্কিং

অনলাইনে বা অফলাইনে আপনার ওয়ার্ক রিলেটেড নেটওয়ার্ক গড়ে তুলুন । আপনার এমন কিছু গ্রুপের সাথে অ্যাড থাকা জরুরি যেখানে আপনি কাজের সময় যেকোনো প্রয়োজনে সাথে সাথে সহজেই যোগাযোগ করতে পারেন । এতে আপনার কাজের হেল্পও হবে আবার কাজ করতে করতে কারো সাথে কথা বললে মন ও ফ্রেশ হয়ে যাবে । আবার কাজের সাথে রিলেটেড বলে কাজ থেকে মনোযোগও সরে যাবে না ।

 

৩. চেয়ার এ সঠিকভাবে বসুন

কাজের সময় চেয়ার এ বসার সময় লক্ষ্য করুন কিভাবে বসে আছেন । লং টাইম ধরে চেয়ার এ বসে থাকতে ডাক্তার যেভাবে রেকমেন্ড করেছে সেইভাবে বসার চেষ্টা করুন । কোমর সোজা করে , শোল্ডার কম্পিউটার এর দিকে না হেলে , হেটো ক্রস না করে সোজা করে রেখে পায়ের পাতা ফ্লোরে সমান্তরাল ভাবে রাখুন । এতে করে হেটু , পা শোল্ডার এবং কোমরের বেথা হওয়ার সম্ভবনা কম হবে ।

 

৪. চোখের দৃষ্টি

লং টাইম ধরে কম্পিউটার এর স্ক্রিনে একভাবে তাকিয়ে থাকলে চোখের ক্ষতি হয় এবং ক্লান্তি মনোভাব হয় । এই ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা ২০-২০-২০ নিয়মাবলী মেনে চলার জন্য রেকমেন্ড করেন : প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ডের জন্য কম্পিউটার থেকে ২০ ফুট দরে কোনো বস্তুর দিকে তাকিয়ে থাকুন ।

 

৫. ডেস্কের সামনে এক্সাসাইজ

ডেস্কের সামনে বসে বেশি ক্ষণ হয়ে গেলে অল্প সময়ের জন্য ব্রেক নিয়ে হাত পা শোল্ডার-এর অল্প এক্সাসাইজ  করে নিবেন । এতে করে শরীর হালকা মনে হবে ।

 

৬ .ডিহাইড্রেশন

কাজের প্রেসারে অনেক সময় পানি খাবারও সময় হয় না এমন মনে হয় কিন্তু বেশি সময় ধরে পানি পান করে থেকে বিরত থাকলে আপনার শরীর ডিহাইড্রেড হইতে পারে । তাই কাজের ফাঁকে ফাঁকে পানি যেন ঠিক ভাবে পান করতে পারেন এজন্য হাতের কাছে পানির বোতল রাখুন ।

 

৭. হেলদি স্নেক্স

আমরা হালকা পাতলা স্নেক্স এ বেসিক্যালি আনহেলদি খাবার খেতে বেশি পসন্দ করি , যেমন- চিপস , বার্গার , বাটার বা অইলি টাইপের খাবার , কিন্তু এইগুলো আমাদের হেলথের জন্য খুব ক্ষতিকারক । তাই এইগুলো খাবার খাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখুন সুস্থ থাকার জন্য ।

 

৮. টাইম শিডিউল মেইনটেইন

আপনার ২৪ আওয়ার্স এ আপনি কোন সময় কোন কাজ করবেন সেটির একটি শিডিউল বানিয়ে ফেলুন এনং কাজের টাইম এ কাজ করুন , কাজের টাইম শেষ হইলে অন্য আপনার যে পার্সোনাল কাজ আছে প্রফেশনাল কাজের বাহিরে সে গুলো করুন ।

 

৯. নিয়মিত এক্সারসাইজ

শরীর ফিট রাখার জন্য খুব জরুরি রেগুলার এক্সারসাইজ করা । তাই সুস্থ থাকতে চাইলে একটু সময় করে নিজের হেলথের যত্ন নিন এক্সারসাইজ করে ।

 

১০. কাজের নির্দিষ্ট জায়গা

কাজ মনোযোগ সহকারে করার জন্য আপনার একটা আলাদা পরিবেশ দরকার । আপনার বাসায় কাজ করার জন্য যে নির্দিষ্ট জায়গা রয়েছে কাজ শেষ হওয়ার পর সেই স্থান ত্যাগ করুন । অন্যথায় কাজের স্থানেই বসে থাকলে আপনার সবসমই কাজের জন্যই টেনশন ফিল হবে । তাই কাজ শেষ হইলে কাজের স্থান ত্যাগ করুন ।

 

১১. সময় মতো খাবার গ্রহণ

কাজের প্রেসারে খাওয়া দাওয়ার অনিয়ম করা উচিত না , তাতে অসুস্থ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে , সময়ের খাবার সময়ই খেয়ে নিবেন ।

 

১২. সময় মতো ঘুম

আপনি সারা রাত জেগে কাজ করলেও আপনার কাজ শেষ হবে না । রাতের ঘুম খুব মেন্টাল হেলথের জন্য জরুরি । আপনার ব্রেন সঠিক ভাবে কাজ করার জন্য পয্যাপ্ত ঘুম দরকার রাতে । তাই সময় মতো রাতে ঘমিয়ে পরুন ।

 

১৩. চোখের যত্ন

অনলাইনে কাজের জন্য আপনার শরীরের যে অঙ্গে সব থেকে প্রেসার পরে তা হচ্ছে চোখ । আর চোখ আমাদের অনেক মূলবান সম্পদ । তাই আপনার উচিত হবে আপনি আপনার চোখের সঠিক যত্ন নিন ।

 

১৪. টুর

অনলাইনের এই ব্যাস্তমই জীবন এক ঘেয়েমি হয়ে গেলে ছোট খাটো টুরে চলে যান আপনার পছন্দের স্থান গুলোতে । এতে আপনার মন আবার চেয়ারআপ  হয়ে যাবে কাজের প্রেসের নেয়ার জন্য ।

 

১৫. ফ্যামিলিকে সময় দিন

কাজের জন্য ফ্যামিলিকে প্রপার টাইম না দেয়া ঠিক নয় । এতে আপনার লাইফ পানসে হয়ে যাবে । ফ্যামিলিকে সময় দেন , মন ভালো থাকবে । শুধু কাজই আপনার লাইফের অংশ নয় , ফ্যামিলি ইজ মোস্ট ইম্পরট্যান্ট থিং ইন আওয়ার লাইফ ।

 

 

নিজের যত্ন নিন সুস্থ থাকুন , আপনার প্রফেশনাল লাইফের জন্য শুভ কামনা ।

আপনার যেকোন প্রশ্ন, সমস্যা, অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে পারেন আমাদের সাথে ২ ভাবে মেইল ও কমেন্ট এর মাধ্যমে । কমেন্ট এর মাধ্যমে হেল্প চাইলে নিচে কমেন্ট করুন । মেইল এর মাধ্যমে যোগাযোগ করতে চাইলে আমাদের কনটাক্ট আস পেজে যোগাযোগ করতে পারেন ।

আজ এই পর্যন্তই । আগামী কোন আর্টিকেলে আপনাদের সামনে হাজির হব নতুন কোন এসইও ও সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এর  নতুন কোন বিষয় নিয়ে । আল্লাহ হাফেজ ।

 

Leave a Reply