সার্চ ইঞ্জিন

সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে ?

Last Updated on

আমরা আমাদের যেকোনো তথ্য জানতে ইন্টারনেট এ সার্চ দিয়ে থাকি।  যেকোনো তথ্য জানার জন্য সার্চ দেয়ার সাথে সাথে লক্ষ লক্ষ রিলেভেন্ট রেজাল্ট আমাদের সামনে হাজির হয়। মিলিসেকেন্ডের মধ্যে লক্ষ লক্ষ চাহিদা মতন ওয়েবসাইট আমাদের সামনে হাজির করার কাজ করে সার্চ ইঞ্জিন। সার্চ ইঞ্জিন গুলোর মধ্যে গুগল সবচাইতে জনপ্রিয়। এছাড়াও বিং, ইয়াহু, ইয়ানডেক্স অন্যতম।

কাজ করার উপায় :

সার্চ ইঞ্জিন তিনটি ধাপে কাজ করে থাকে। ক্রলিং, ইনডেক্সিং ও ফলাফল প্রদান

ক্রলিং: প্রথম ধাপে, সার্চ ইঞ্জিন তার রোবর্ট পাঠায় ওয়েবসাইটের দেয়া সাইটম্যাপ অনুযায়ী, ওয়েবসাইটের পেজ বা পোস্টে। গুগল এর রোবর্টকে গুগল বট , বিং বট, ইয়াহু বট বলে থাকে।

দ্বিতীয় ধাপে, বট কনটেন্ট বা পেজ বা পোস্টকে crawl করে। পেজ বা পোস্ট এর ইমেজ সাইডবার সবকিছুই ক্রল এর মাধ্যমে ওই পেজ গুগল এ ইনডেক্স হয়। সার্চ ইঞ্জিন বট ক্রল করে ডাটাবেস এ সকল ইনফরমেশন রাখে।  গুগলবট হলে গুগল এ রাখা থাকে। ক্রলার বা স্পাইডার পেজের কোনো আপডেট করার সাথে সাথেই ক্রলার ক্রল করে নেয়।

ইনডেক্সিং: যেকোনো সার্চ ইঞ্জিনের রোবর্ট ক্রল করার মাধ্যমে পেজকে ইনডেক্স করে নেয়। খুব সহজেই বলতে গেলে, ধরুন আপনার কাছে অনেক রকমের খাবারের মেনু দেয়া হলো বিভিন্ন দামের। এখন আপনি খাবারের নাম মূল্য তালিকা আলাদাভাবে লিখে রাখাটাই হচ্ছে ইনডেক্সিং।

ফলাফল প্রদান: ব্যবহারকারী যখন কীওয়ার্ড দিয়ে সার্চ করে তখন বট তার ডাটা বেস ইনডেক্স করা লক্ষ লক্ষ সার্চ রেজাল্ট থেকে রিলেভেন্ট  রেজাল্ট গুগল আলগোরিদমের মাধ্যমে ও ২০০ টির মতন গুগল রেঙ্কিং ফ্যাক্টর বিবেচনা করে রেজাল্ট দেখায়।

নিচে ২০টি  গুরুত্বপূর্ণ রাঙ্কিং ফ্যাক্টর বর্ণনা করা হলো

(১) ডোমেইনের বয়স : গুগল ডোমেইনের বয়সকে অনেক ক্ষেত্রে রাঙ্কিং এ গুরুত্ব দিয়ে থাকে। তাই এটি রাঙ্কিং ফ্যাক্টরের মধ্যে অন্যতম।

(২) ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন সময় : একটা কথা মনে রাখবেন যারা স্পাম করার জন্য ওয়েবসাইট তৈরি করে তারা ডোমেইন কিনে মাত্র ১ বছর এর জন্য কিনে থাকে ৯৯ সেন্ট বা ১ ডলার এ। তাই গুগল বেশি বয়স এর ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন গুগল র্যাংকিং ফ্যাক্টর এ গুরুত্বপূণ।  

(৩) এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন : গুগল আপডেট এ এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইন খুবই তাৎপর্যপুন্য ভূমিকা রাখে রাংকিং ফ্যাক্টরে। নিচে কিছু এক্সাক্ট ম্যাচ ডোমেইনের উদাহরণ দেয়া হলো ;

a. সাবডোমাইন কীওয়ার্ড নাম: আপনি আপনার ডোমেইন এ যদি কীওয়ার্ড ডোমেইন নাম এর সাথে রাখেন তাহলে গুগল রাঙ্কিং ফ্যাক্টরে গুরুত্ব পায়। উদাহরণ: Keyword.ABC.com

B. টপ-লেভেল ডোমেইন এ কীওয়ার্ড: আপনার কীওয়ার্ড আপনার ডোমেইন এ আসলে গুগল তা প্রাসঙ্গিক সিগন্যাল পায়।  তখন তা রাংকিং এ গুরুত্ব দেয়।

C. কীওয়ার্ড ডোমেইনের প্রথম শব্দ হলে: আপনার টার্গেটেড কীওয়ার্ড অবশ্যই ডোমেইন এ আসতে হবে যাতে করে গুগল ক্রলার সহজেই প্রাসঙ্গিকতা বুঝতে পারে।

(৪) কান্ট্রি টি এল ডি এক্সটেনশন : আপনি যদি টপ লেভেল ডোমেইন ব্যবহার করে থাকেন কান্ট্রি কোড দিয়ে তাহলে আপনি সহজেই রাঙ্ক করতে পারেন। উদাহরণ: .in, .cn, .us, .cl ইত্যাদি।

আর যদি গ্লোবালি এক্সটেনশন ব্যবহার করে থাকেন তবে আপনাকে কম্পেটিশনে পড়তে হবে।

(৫) টাইটেল ট্যাগ এ কীওয়ার্ড ব্যবহার: আপনার কীওয়ার্ডকে আপনি টাইটেল এ রাখলে গুগল রাঙ্কিং এ এইটা প্রাধান্য দেয়।

(৬) টাইটেল ট্যাগ এর শুরুতেই কীওয়ার্ড ব্যবহার : টাইটেল এর শুরুতেই কীওয়ার্ড বসালে গুগল এর কাছে বেশি প্রাধান্য পায় শেষ এর দিকে বসানোর চাইতে।

(৭) ডেসক্রিপশন এ কীওয়ার্ড এর ব্যবহার : ডেসক্রিপশন এ প্রথম দিক এ কীওয়ার্ড ব্যবহার করলে গুগল রাঙ্কিং এ ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।

(৮) H১ ট্যাগ এ কীওয়ার্ড এর ব্যবহার : H ১ ট্যাগ এ  কীওয়ার্ড এর ব্যবহার করলে গুগল প্রাসঙ্গিকতার জন্য রাঙ্কিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে থাকে।

(৯) কনটেন্ট এ কীওয়ার্ড রেশিও ঠিক রাখা : কনটেন্ট এ অতিরিক্ত কীওয়ার্ড ব্যবহার করলে গুগল ম্যানুপুলেশন বুঝে যায়। তাই  নির্দিষ্ট একটি রেশিও ঠিক রাখতে হয় যা ১% রেকমেন্ডেড।

(১০) কনটেন্ট দের্ঘ : কনটেন্ট দের্ঘ বলতে যত ইচ্ছে বড় করলে হবে না। কনটেন্ট এমন ভাবে লিখতে হবে যাতে বিস্তারিত, তথ্যবহুল ও নির্দিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে হয়।

(১১) LSI কীওয়ার্ড ব্যবহার : LSI কীওয়ার্ড কনটেন্ট এ ব্যবহার করার ফলে গুগল রাঙ্কিং করার একটি অন্যতম পদ্ধতি।

(১২) LSI টাইটেল ও ডেস্ক্রিপশনে ব্যবহার : LSI কীওয়ার্ড কনটেন্ট এর টাইটেল ও ডেসক্রিপশন এ ব্যবহার করার ফলে গুগল রাংকিং এ অন্যতম ফ্যাক্টর।

(১৩) পেজ লোডিং স্পিড : ওয়েবসাইট এ লোডিং স্পিড ইস্যু থাকলে আপনি রাঙ্কিং এ পিছিয়ে যাবেন তাই লোডিং পেজ স্পিড ইস্যুটা একটি গুরুত্বপূণ ফ্যাক্টর।

(১৪) ডুপ্লিকেট কনটেন্ট : আপনার কনটেন্ট যদি ডুপ্লিকেট হয় তাহলে আপনি রাঙ্কিং পাবেন না বরং গুগল থেকে পেনাল্টি খেতে পারেন। তাই কনটেন্ট ইউনিক হতে হবে এইটা গুগল র্যাংকিংয়ের আরো একটি গুরুত্বপূণ্য ফ্যাক্টর।

(১৫) ইমেজ অপ্টিমাইজ : ইমেজ অপ্টিমাইজ যদি না হয় তবে রাংকিংয়ে সমস্যা হয়। তাই ইমেজ এ Alt ট্যাগ ব্যবহার করতে হবে।

(১৬) URL দের্ঘ : URL দের্ঘ ছোট রাখাই গুগল এর চোখে।

(১৭) URL এ কীওয়ার্ড : URL এ অবশ্যই কীওয়ার্ড থাকতে হবে।

(১৮) SSL সার্টিফিকেট : সাইট এ অবশ্যই SSL থাকতে হবে এটিও রাংকিং ফ্যাক্টর হিসেবে কাজে দেয়।

(১৯) মোবাইল অপ্টিমাইজ: মোবাইল ব্যবহারকারী যাতে আপনার সাইট ঠিক থাকে মোবাইল এ দেখতে পারে তাই মোবাইল  অপ্টিমাইজ খুব গুরুত্বপুন্য গুগল এর চোখে।

(২০) outbound লিংক : আপনার সাইট যদি প্রাসঙ্গিক সাইট এ লিংক দেয় তাহলে তা গুগল এর চোখ এ গুরুত্ব পায়।

(২১) inbound লিংক : আপনার ওয়েবসাইট এ যদি ইন্টারনাল লিংক অথরিটি পেজ এ করেন তাহলে তা ভালো ফল দেয়।

(২২) সোশ্যাল শেয়ার: আপনার পোস্ট যত সোশ্যাল শেয়ার করা যাই গুগল এর চোখে তার গুরুত্ব তত বেশি দেখায়।

(২৩) Nofollow লিংকস : নো-ফলো  লিংক যদিও গুগল ক্রল করে না কিন্তু এই লিংক গুলো একটা নির্দিষ্ট পার্সেন্টেজে থাকলে গুগল এর কাছে ন্যাচারাল সিগন্যাল পায়।

(২৪) স্কিমা মার্কআপ : স্কিমা মার্কআপ এর মাধ্যমে যেকোনো প্রোডাক্ট/ বই /লোকেশন /রেস্টুরেন্টকে রেটিং দেয়া হয় যা কিনা গুগল র্যাংকিং এ গুরুত্ত্ব বহন করে থাকে।   

(২৫) বাউন্স রেট : যখন আপনার ওয়েবসাইট এ ভিসিটর আসার পর সে তার কাঙ্খিত তথ্য না পেয়ে চলে গেলো বা অন্য পেজ এ না যেয়ে চলে গেলে ঐটাই বাউন্স বলে। বাউন্স রেট যত কম হবে তত গুগলের কাছে ভালো।

(২৬) chrome বুকমার্ক : ক্রোম ব্রাউসার এর বুকমার্ক থেকেও গুগল বট ক্রল করে থাকে।  তাই ক্রোম বুকমার্ক গুগল র্যাংকিং ফ্যাক্টর এ গুরুত্ব বহন করে থাকে।

(২৭) অতিরিক্ত ৩০১ রিডাইরেক্টস : আপনার ওয়েবসাইট এ  যদি অতিরিক্ত ৩০১ রিডাইরেক্ট করা হয় তবে তা খারাপ ফল বয়ে আনবে তাই অতিরিক্ত ৩০১ রিডাইরেক্টস পরিত্যাগ করাই ভালো।

(২৮)  সাইট বেশি অপ্টিমাইজ করা হলে :আপনার সাইট যদি অনেক বেশি কীওয়ার্ড দেন বা প্রচুর লিংক করেন যা কিনা কৃত্রিম উপায়ে তাহলে গুগল ঐটা অতিরিক্ত অপ্টিমাইজ হিসেবে গণনা করে।

(২৯) পেজ বেশি অপ্টিমাইজ করা হলে : ওয়েবসাইট এর মতন আপনি যদি পেজকে অতিরিক্ত অপ্টিমাইজ করে থাকেন তাহলে তা পরিহার করাই ভালো।

(৩০) গুগল ডান্স : গুগল মাঝে মধ্যে আপডেট করে তার আলগারিথমকে তখন দেখা যায় যারা ওয়েবসাইটকে বেশি ম্যানুপুলেট করে এই ডান্সে তাদের ওয়েবসাইট ট্রাফিক হারিয়ে থাকে। তাই আমাদের ওয়েবসাইটকে ট্রাফিক বান্ধব করা জরুরী। ট্রাফিক বান্ধব ওয়েবসাইটকে গুগল রাংকিং ফ্যাক্টর এ ভালো গুরুত্ব দেয়।

এই ছাড়াও অনেক গুরুত্ব পুন্য র্যাংকিং ফ্যাক্টর আছে। সর্বমোট ২০০ র্যাংকিং ফ্যাক্টর আছে।

About the author

Yaqub Nipu

আমি মোঃ ইয়াকুব একজন এসইও শিক্ষানবিশ এবং NShamimPRO কোর্স এর একজন মেম্বার। নাসির উদ্দিন শামীম ভাই এর অনুপ্রেণায় এসইও কাজ শুরু করি এবং নিজের ব্লগ দাড় করাই। ব্লগ দাড় করতে গিয়ে যে সকল সম্যসার সম্মুখীন হয়েছি এবং যে সব কিছু মাথায় থাকতে হবে তাই নিয়েই আমার লিখা লিখি। আমিও এখনো একজন লার্নার, তাই  বলবো জানতে থাকুন ও নতুন নতুন জিনিস শিখতে থাকুন।

View all posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *