Last Updated on

একটা ওয়েবসাইটের জন্যে এসইও করার সময় আমরা কন্টেন্ট এবং ব্যাকলিঙ্কে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। কিন্তু  এই দুইটা বিষয়ে ফোকাস রাখতে গিয়ে আমরা আসল জিনিসটাই ভুলে যাই। সেটা হচ্ছে – এসইও অডিট। 

এবং এই এসইও অডিটটা একটা রুটিন ওয়ার্ক। প্রত্যেকটা সাইটই ঠিক ৫-৬ মাস পর পর অডিট করা প্রয়োজন। কারণ নতুন নতুন কন্টেন্ট দেয়ার ফলে; ওয়েবসাইটে অনেক কিছু চেঞ্জ হয়। স্ট্রাকচারাল চেঞ্জ এর পাশাপাশি স্পিড ইস্যু এবং সাথে সাথে লিঙ্ক এর এঙ্কর ও নিয়মিত অডিট করা প্রয়োজন। 

Contents hide

এসইও অডিট কি ?

আপনার ওয়েবসাইট এর বর্তমান পারফরমেন্স বিশ্লেষণ করার জন্য যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় তাই হচ্ছে এসইও অডিট। আপনার ওয়েবসাইট এর খুঁটি নাটি সমস্যা বের করতে ও ট্রাফিক বাড়াতে এটি প্রথম পদক্ষেপ। তাই সমস্যা গুলো খুঁজে বের করতে ও সংশোধনের জন্য আপনাকে নিচের এই ১৬ টি এসইও অডিট পদ্ধতি অবশ্যই অনুসরন করতে হবে।


আপনি যদি এই পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন তবে আপনার সাইট যত বড় হোক না কেনো মানে হাজার বা মিলিয়ন পেজও হয় তারপরেও অডিট করতে আপনার কয়েক ঘন্টা ইভেন তার চেয়ে ও কম সময় লাগতে পারে।

চলুন দেখে নিই যে – একটা ওয়েবসাইট অডিট করার সময় কোন কোন বিষয়গুলো চেক করা প্রয়োজন। 

অডিট করার জন্য যে টুলস গুলা প্রয়োজন

অডিট করতে আপনাকে যে সকল টুলস অবশ্যই ব্যবহার করবেন তা নিচে দেয়া হলো;

এই টুলস গুলোর সব গুলা আপনার সাইট অডিট করতে দরকার হয়ে থাকে। এইবার তাহলে জেনে আসা যাক ওয়েবসাইট অডিট করার পদ্ধতিগুলো কি কি?


আমি আপনাদের বুঝার সুবিধার্থে একটি সাইট অডিট করে স্ক্রিনশট দেখাবো যাতে আপনি সহজেই বুঝতে পারেন।

১) আপনার সাইটটি একটি মাত্র ভার্সন ব্রাউসযোগ্য কিনা তা চেক করুন :

আমরা জানি যেকোনো সাইট এর ৪টি ভার্শনের যেকোনো একটি আপনাকে প্রেফার করতে হবে। এই স্টেপটিতে আপনাকে দেখতে হবে আপনি যখন ব্রাউসার এ আপনার সাইট এর বিভিন্ন ভার্সন দিয়ে ট্রাই করছেন আপনার সাইটটি নিচের একটি ভার্শনে রি-ডাইরেক্ট হচ্ছে।
উদাহরণস্বরূপ,


http://yourdomain.com

http://www.yourdomain.com

https://yourdomain.com

https://www.yourdomain.com

আপনি উপরের ৪ টি ভার্সন সার্চ বারে দিলেন কিন্তু যেকোনো একটি ভার্শনে রি-ডাইরেক্ট করবে অর্থাৎ আপনি যেটা প্রেফার করে দিসেন সে ভার্শনে রি-ডাইরেক্ট করবে।
রেকোমেন্ডেড হচ্ছে https (non www version) সাথে SSL থাকতে হবে। অর্থাৎ এনক্রিপ্টেড হতে হবে।

2) গুগল ইনডেক্সিং ইস্যু চেক করুন :

যদি আপনার সাইট গুগলে ইনডেক্স না থাকে তাহলে আপনি রাঙ্ক করতে পারবেন না। তাই আপনার গুরুত্বপূর্ণ পেজ বা পোস্ট গুলা ইনডেক্স আছে কিনা? বা সব গুলা পেজ বা পোস্ট ইনডেক্স আছে কিনা তা চেক করুন।
আপনি ২ ভাবে সাইট ইনডেক্স চেক করতে পারেন। নিচে ২ টি পদ্ধতি দেয়া হলো;

পদ্ধতি-১:

সার্চ কনসোল এ যেয়ে coverage এ যাবেন সেখানে valid লিখতে ক্লিক করবেন। তারপর submit and index এ ক্লিক করলেই আপনার ইনডেক্স হওয়া পেজ দেখাবে। নিচের স্ক্রিনশট এর মতন।

পদ্ধতি-২:

দ্বিতীয় পদ্ধতিতে আপনি গুগলের সার্চ বারে site:yourdomain.com দিলেই আপনার ইনডেক্স পেজ গুলা গুগলে চলে আসবে। নিচের স্ক্রিনশট দেখে নিন।
নোট : যদি আপনার ইনডেক্স পেজের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পেজ না থাকে বা কোনো পেজেই ইনডেক্স না হয় তবে আপনার সাইট এর ইনডেক্সিং সমস্যা আছে। সেই ক্ষেত্রে আপনাকে robot.txt তা ভালো করে দেখতে হবে।

৩) আপনার ব্র্যান্ড নাম দিয়ে চেক করুন :

গুগল এ যেয়ে তারপর আপনার ব্র্যান্ড নাম দিয়ে চেক করুন। যদি আপনার সাইট নতুন হয় তবে ব্র্যান্ড নাম দিয়ে সার্চ করলেও পাওয়া যাবে না। তবে সাইট যদি পুরানো হয় তাহলে সহজেই আপনি আপনার ব্র্যান্ড নাম দিলেই সার্চ রেজাল্ট এ পেয়ে যাবেন।

নোট: একটি বিষয় মনে রাখবেন, আপনি যখন আপনার ব্র্যান্ড নাম দিয়ে সার্চ করবেন তখন আপনার ওয়েবসাইটটি প্রথমেই দেখাবে যদি প্রথমে নাও দেখায় তবে দ্বিতীয় পসিশন এ দেখাবে। যদি আপনি আপনার ওয়েবসাইটটি না দেখতে পান তাহলে ২টি কারণ হতে পারে ১) আপনার ওয়েবসাইটটি নতুন ২) ওয়েবসাইটটিতে সমস্যা আছে।

৪) ম্যানুয়ালি বেসিক অন-পেজ চেক:

ম্যানুয়ালি আপনি বেসিক অন-পেজ চেক করে দেখতে পারেন। আপনি প্রথমেই ওয়েবসাইট এর উপর রাইট ক্লিক করে “view page source” এ ক্লিক করে ওয়েবসাইট এর ভিতরে যান। তারপর আপনি নিচের বিষয়গুলা লক্ষ্য করুন ;
১) টাইটেল ট্যাগ আছে কিনা ?
২) মেটা ডেসক্রিপশন আছে কিনা?
৩) h১ ট্যাগ অপটিমাইজড কিনা ?
৪) h২; h৩ ঠিক থাকে আছে কিনা?
নিচের স্ক্রিনশট এ উপরের বিষয় গুলো দেখে নিন।

৫) টুলস দিয়ে অন-পেজ এসইও গভীরভাবে চেক করুন :

আপনি এই সময় Screaming frog নামের ফ্রি টুলস দিয়ে যেকোনো ওয়েবসাইট এর ৫০০ পর্যন্ত ইউআরএল চেক করতে পারবেন। তাই screaming frog এর “enter url to spider” এ যেয়ে আপনার যে সাইটটি অডিট করবেন ঐ ইউআরএল তা দিবেন। তারপর আপনি start বাটন এ ক্লিক করলেই screaming frog তার কাজ শুরু করে দিবে। ক্রল করা শেষ হলে আপনাকে যে বিষয় গুলা দেখতে হবে তা নিচে দেয়া হলো;

  • H১ ট্যাগ :

আপনার ওয়েবসাইট এর কোনো পোস্ট এর H১ ট্যাগ যদি মিসিং/ডুপ্লিকেট/ ৭০ ক্যারেক্টর এর বেশি থাকে তাহলে তা নোট করে রাখুন ঠিক করার জন্য। H২ ট্যাগ এর ক্ষেত্রেও একই।

  • মেটা ডেসক্রিপশন:

মেটা ডেস্ক্রিপশনের ক্ষেত্রে আপনি লক্ষ্য করবেন মিসিং/ডুপ্লিকেট/১৫৫ ক্যারেক্টার এর বেশি/৭০ ক্যারেক্টর এর কম আছে কিনা?

  • পেজ টাইটেল :

পেজ টাইটেল এর ক্ষেত্রে আপনি অবশ্যই মিসিং/ডুপ্লিকেট/৬৫ ক্যারেক্টার এর উপরে/৩০ ক্যারেক্টর এর নিচে থাকলে আপনি নোট করে ঠিক করে ফেলুন।

  • ইমেজ অল্ট ট্যাগ :

আপনি যে ইমেজ ব্যবহার করছেন তা ১০০ kb বেশি কিনা ? বা মিসিং আছে কিনা তা লক্ষ্য করুন।

  • ব্রোকেন লিংক:

আপনার ওয়েবসাইট এ ব্রোকেন লিংক থাকলে তা আপনার এসইও পারফরমেন্স এ প্রভাব ফেলবে। তাই আপনি ৪০৪ পেজ বা পোস্ট লিংক গুলা অডিট শিট এ এক্সপোর্ট করে রাখুন যাতে পরে তা ঠিক করতে পারেন। আপনি চাইলে সার্চ কনসোল থেকে কাভারেজ এ যেয়ে ৪০৪(Not found) পেজ বা পোস্ট গুলা পেয়ে যাবেন।

৬) ডুপ্লিকেট কনটেন্ট আছে কিনা সেটা চেক করুন:

গুগল ডুপ্লিকেট কনটেন্ট বেশ অপছন্দ করে। তাই যদি আপনার ওয়েবসাইট এ ডুপ্লিকেট কনটেন্ট থাকে তাহলে গুগল পান্ডা পেনাল্টি দিতে পারে। তাই ডুপ্লিকেট কনটেন্ট চেকার হিসেবে আপনি copyscape ব্যবহার করতে পারেন।

৭) ওজি প্রপার্টি :

ওজি প্রপার্টি হচ্ছে সোশ্যাল শেয়ার বাটন। আপনি অডিট করা সাইটটিতে view source page এ যেয়ে ctrl+F দিয়ে og লিখলেই দেখবেন এমন কিছু পাবেন <meta property=”og:locale” content=”en_US” /><meta property=”og:type” content=”article” /> যদি পান তাহলে ঠিক আছে না পেলে নোট রাখুন ফিক্স করার জন্য।

৮) ওয়েবসাইট স্পিড :

ওয়েবসাইট স্পিড টেস্ট করার জন্য আপনি এই ইউআরএল এ যেয়ে মোবাইল ও ডেস্কটপ ভার্সনটি দেখে নিন;(https://developers.google.com/speed/pagespeed/insights/)যে রিপোর্ট পাবেন তা অডিট রিপোর্টে তুলে ধরেন।

৯) মোবাইল ফ্রেন্ডলি টেস্ট :

বর্তমানে মোবাইল ফ্রেন্ডলি ওয়েবসাইট অত্যাবশক। তাই আপনার সাইটটি মোবাইল ফ্রেন্ডলি কিনা তা যাচাই করার জন্য এই লিংকে যান; https://search.google.com/test/mobile-friendly

১০) রোবট ডট টিএক্স টি চেক করুন:

আপনার ওয়েবসাইট রোবট ডট টিএক্সটি যদি ঠিক না থাকে তবে সার্চ ইঞ্জিন ক্রল করতে পারবে না এবং আপনার ওয়েবমাস্টার এ ওয়ার্নিং শো করবে তাই রোবট ডট টিএক্সটি ফাইল চেক করুন ঠিক আছে কিনা?
রোবট ডট টিএক্সটি ফাইল চেক করতে এই লিংকটি ব্যবহার করুন; https://support.google.com/webmasters/answer/6062598?hl=en

১১) ওয়েবসাইট এর সাইটম্যাপ চেক করুন:

আপনার ওয়েবসাইট এর সাইটম্যাপ ঠিক মতন বসাতে না পারলে ওয়েবসাইট এ গুগল বট ঠিক থাক ক্রল করতে পারবে না। যার ফলে আপনার ওয়েবসাইট এর পেজ পোস্ট ইনডেক্স হতে সমস্যায় পড়বেন তাই ওয়েবসাইট এর সাইটম্যাপ চেক করুন এই লিংক থেকে –  http://sitemapinspector.com/  

১২) hreflang চেক করুন: 

আপনার ওয়েবসাইট যদি বিভিন্ন ল্যাঙ্গুয়েজের হয়ে থাকে তবে hleng ট্যাগ তা ঠিক আছে কিনা ঐটা চেক করুন। আপনি ওয়েবসাইট এ যেয়ে রাইট ক্লিক করে “view page source” এ যাবেন তারপর আপনি এমন কোড পাবেন <meta name= “language” content = “fr-CA”> 

১৩) কনটেন্ট রিডেবিলিটি ও টাইটেল অডিট করুন:

আপনার ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট সহজেই পরে বুঝা যায় ও পাঠকের জন্য যথেষ্ট ইনফরর্মশন ও টপিক অনুযায়ী হয় তবে আপনার কন্টেন্টটি রিডেবিলিটি ভালো। 

অন্যদিকে, টাইটেল ইউনিক ও নজরকাড়া হলে রিডারকে আকর্ষিত করে ক্লিক করতে। তাই ইউনিক ও নজরকাড়া টাইটেল কিনা তা চেক করুন। নিচের এই টুলটা ইউজ করতে পারেন রিড-এবিলিটি চেক করার জন্যে –
https://www.webfx.com/tools/read-able/

১৪) কনটেন্ট এ কীওয়ার্ড ডিস্ট্রিবিউশন অডিট করুন :

কনটেন্ট এর বডি, টাইটেল, ইউআরএল, মেটা ডেসক্রিপশন এ মেইন কীওয়ার্ড ও LSI কীওয়ার্ড এর ব্যবহার কোথায় কোথায় কত বার করা হইসে তা চেক করুন। চেক করার জন্য আপনি এই টুলস ব্যবহার করতে পারেন; https://wordcounter.net/      

১৫) ব্যাকলিংক প্রোফাইল অডিট করুন :

ওয়েবসাইট এর ব্যাকলিংক গুলা চেক করার জন্য আপনি Ahrefs (পেইড)বা ফ্রি টুলস গুলা ব্যবহার করতে পারেন। আপনার ওয়েবসাইট এর হাবিজাবি লিংক থাকলে আপনার ওয়েবসাইট গুগল থেকে পেনাল্টি খেতে পারে। তাই ভালো করে আপনার ব্যাকলিংক প্রোফাইল চেক করুন। আপনি যদি Ahrefs ব্যবহার করেন তাহলে আপনি নিচের স্ক্রিনশট গুলা লক্ষ্য করুন। আপনি ahrefs এ যাবার পর site explore এ যেয়ে সাইট ইউআরএল দিয়ে এন্টার চাপবেন। এইরকম ইন্টারফেস আসবে।

তারপর আপনি ব্যাকলিংক লিখাতে ক্লিক করলেই ব্যাকলিংক গুলা আপনাকে সামনে নিয়ে আসবে। নিচের স্ক্রিনশট এর মতন।

সেইখান থেকে আপনি “Link Type” ক্লিক করে লিংক এর বিভিন্ন ক্যাটাগরি পেয়ে যাবেন। সাথে বাম পাশে আপনি চাইলেই ঐ ওয়েবসাইট এর নিউ/ব্রোকেন/লস্ট লিংক গুলা জানতে পারবেন।

Ahrefs যেহেতু পেইড টুলস আর আপনার কাছে যেহেতু পেইড টুলস নাও থাকতে পারে সেই ক্ষেত্রে আপনি কি করবেন? আপনি ahrefs এর https://ahrefs.com/backlink-checker এই লিংক দিয়েও চেক করতে পারেন অথবা আপনি এসইও স্মল টুলস দিয়েও ফ্রিতে চেক করতে পাবেন। https://smallseotools.com/backlink-checker/

খুব ভালো করে এঙ্কর টেক্সট রেশিওটা চেক করুন। দেখুন কমার্শিয়াল বা বায়িং ইন্টেন্ট কিওয়ার্ডগুলো ব্যবহারের পারসেন্টেজ অনেক বেশি কি না।

১৬) সাইট স্ট্রাকচার অডিট করুন:

আপনার ওয়েবসাইট এর কনটেন্ট থেকে অন্য কনটেন্ট বা এক পোস্ট থেকে অন্য পোস্ট এ লিংক করেছেন নিশ্চিত। আপনি লিংক গুলা কি রিলেভেন্ট পেজ বা পোস্ট এ করেছেন কিনা? ও সঠিক ভাবে করেছেন কিনা তা অডিট করুন। তার জন্য আপনি সার্চ কনসোল থেকেই জেনে নিতে পারেন। আপনি সার্চ কনসোল এ যেয়ে লিংকস এ ক্লিক করলেই এক্সটার্নাল ও ইন্টারনাল লিংক অপসন আসবে সেখানে আপনি more ক্লিক করলেই সব গুলা লিংকস দেখতে পারবেন। 

এসইও অডিট স্যাম্পল:

Chase Reiner এর নিচের অডিট ফাইলটা দেখতে পারেন।