ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কি? ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কেন ঝুঁকিপূর্ণ? ব্ল্যাক হ্যাট এসইও টেকনিক।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও এমন একটি প্রাকটিস যা সার্চ ইঞ্জিন নির্দেশিকাগুলির বিরুদ্ধে যায় এবং একটি ওয়েবসাইটের সার্চ রাঙ্কিং বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কৌশলগুলি সার্চকারীদের  উদ্দেশ্যকে উপেক্ষা করে ও সিস্টেমকে ধোকা দেয় এবং অসাধু প্র্যাক্টিসের মাধ্যমে সার্চ রেজাল্টস এ চলে আসে। 

ব্ল্যাক হ্যাট বনাম হোয়াট হ্যাট এসইও তুলনা

#ব্ল্যাক হ্যাট এসইওর মাধ্যমে রাঙ্কিং বাড়াতে সার্চ ইঞ্জিন গাইডলাইনকে এড়িয়ে কাজ করে। 
#হোয়াইট হ্যাট এসইওতে রাঙ্কিং বাড়ানোর জন্য সার্চ ইঞ্জিন গাইডলাইনগুলি সুচারুরূপে অনুসরণ করে।

একটি বিষয় মনে রাখবেন ব্ল্যাক হ্যাট এসইও আসলে আপনার দীর্ঘমেয়াদী এসইওকে সাহায্য করার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি করতে পারে।

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও কেন ঝুঁকিপূর্ণ এবং আপনার সাইটকে ক্ষতি করতে পারে

ব্ল্যাক হ্যাট এসইও আপনার ওয়েবসাইট এবং ব্র্যান্ডকে একাধিক উপায়ে ক্ষতি করতে পারে।

১) এটি সার্চের র‍্যাঙ্কিং কমিয়ে দিতে পারে অথবা এমনকি সার্চের ফলাফল থেকে সম্পূর্ণ অদৃশ্য হওয়ার কারণ হতে পারে।
২) এটি শুধুমাত্র স্বল্পমেয়াদী ফলাফল তৈরি করে।  
৩) এটি ভিসিটরদের জন্য খারাপ, বিরক্তিকর বা বিভ্রান্তিকর অভিজ্ঞতা তৈরি করে। 

৯টি ব্ল্যাক হ্যাট এসইও টেকনিক

১) নিম্নমানের কনটেন্ট একটি গুচ্ছ প্রকাশ করা 
সার্চ ইঞ্জিনগুলি এমন ওয়েবসাইট পছন্দ করে যেখানে প্রচুর ভালোমানের কনটেন্ট রয়েছে। যেহেতু ভালোমানের কনটেন্ট তৈরি করা সহজ বা সস্তা নয়, তাই অনেক সময় ব্ল্যাক হ্যাট মার্কেটারদের কাছে থেকে অনেক নিম্নমানের, কম মূল্যের, সস্তা কনটেন্ট প্রকাশ করে সার্চ রেজাল্টস সিস্টেমকে পরাজিত করার চেষ্টা করে।
এই ব্ল্যাক হ্যাট কৌশলটির পরিবর্তে, পাঠকদের জন্য প্রাসঙ্গিক এবং মূল্যবান এসইও কনটেন্ট তৈরি করুন যা সার্চ ইঞ্জিনের ফলাফল এ আসতে সাহায্য করে। 

২) কীওয়ার্ড স্টাফিং এবং ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট 
কীওয়ার্ড স্টাফিং হল আপনার কনটেন্ট এ একটি কীওয়ার্ড এর অতিরিক্ত ব্যবহার এবং টার্গেট টার্মের জন্য পৃষ্ঠাকে রাঙ্ক করার জন্য সার্চ ইঞ্জিনগুলি চেষ্টা করে। একটি পৃষ্ঠা কীওয়ার্ড স্টাফিং ব্যবহার করতে পারে যদি এর কীওয়ার্ড ঘনত্ব খুব বেশি হয়।
ডুপ্লিকেট কন্টেন্ট হচ্ছে একটি ওয়েবসাইটের একাধিক পৃষ্ঠায় একই কন্টেন্ট প্রকাশ করে সার্চ ইঞ্জিনকে আকৃষ্ট করার চেষ্টায় করা। এই দুটি কৌশলই সাধারণত সার্চ ইঞ্জিনের গাইডেলিনের বিরুদ্ধে যায়।

৩) ক্লোকিং
ক্লোকিং হল একটি ব্ল্যাক হ্যাট এসইও টেকনিক যা সার্চ ইঞ্জিনকে একটি নির্দিষ্ট সার্চ টার্মের র‍্যাঙ্কিং কন্টেন্টে ঠকানোর জন্য ব্যবহৃত হয়। ক্লোকিং ব্যবহারকারীদের এক কনটেন্ট দেখায় কিন্তু সার্চ ইঞ্জিনে একটি ভিন্ন কনটেন্ট দেখায়।

৪) বিভ্রান্তিকর পুন:রিডারেক্ট ব্যবহার করা
বিভ্রান্তিকর পুন:রিডারেক্ট হল আরেকটি ব্ল্যাক হ্যাট টেকনিক যা ভিসিটরদের এবং সার্চ ইঞ্জিনকে বিভ্রান্ত করতে ব্যবহৃত হয়। একটি পুন:রিডারেক্ট লিঙ্ক সেটআপ করা হয় যা ব্যবহারকারীদের এবং সার্চ ইঞ্জিনগুলিকে বিভিন্ন পৃষ্ঠায় নিয়ে যায়। 

৫) ব্যাকলিঙ্ক কেনা
আপনার সাইটের সাথে লিঙ্ক করার জন্য অন্য হাই-কোয়ালিটি সাইট থেকে লিংক পাওয়া একটি অফ পেজ এসইও কৌশল যা সার্চ রাঙ্কিং বাড়াতে পারে। অন্যভাবে বলতে গেলে যেকোনো লিংক ক্রয় করাই হচ্ছে ব্ল্যাক হ্যাট মেথড। 

৬) লিঙ্ক ফার্ম এবং প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা

লিংক ফার্মিং এবং প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্ক দুটি ব্ল্যাক হ্যাট এর অন্য উপায় যা  দ্রুত এবং অর্গানিক নয় এমন লিঙ্ক তৈরির চেষ্টা করে। এই পরিস্থিতিতে, মার্কেটার প্রাইভেট ব্লগ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সার্চ রাঙ্কিং উন্নত করতে এমন সাইটগুলির সাথে লিঙ্ক করার জন্য ব্যবহার করে থাকে। 

৭) স্প্যামিং ব্লগ কমেন্ট 
লিংক পাওয়ার জন্য আপনি যদি অন্য ওয়েবসাইট এর মান না দেখেই ও রেলিভেন্সি বজায় না রেখেই কমেন্ট করেন তবে সেইটা স্প্যামি ব্লগ কমেন্ট হবে। 

৮) স্ট্রাকচার্ড ডেটা অপব্যবহার
স্ট্রাকচার্ড ডেটা বা স্কিমা মার্কআপ হল একটি ওয়েবপৃষ্ঠায় কোড যোগ করা যা ক্রলকে বুঝতে সাহায্য করে ওয়েবপেজটি কি নিয়ে যার ফলে সার্চ ইঞ্জিন তথ্যবহুল ফলাফল প্রদর্শন করে থাকে। ব্ল্যাক হ্যাট এসইও সার্চ ইঞ্জিনগুলিকে সার্চ ফলাফলে মিথ্যা তথ্য প্রদর্শনের জন্য স্ট্রাকচার্ড ডেটা ব্যবহার করে। 

৯) নেতিবাচক এসইও বা মিথ্যা প্রতিবেদনকারী প্রতিযোগী সাইট
নেতিবাচক এসইও একটি কৌশল যা এটিকে একটি অথরিটি সাইটের মতো দেখতে ব্ল্যাক হ্যাট এসইওতে নিযুক্ত করার জন্য ব্যবহার করা হয়। এই কৌশলটির লক্ষ্য হল সার্চ ইঞ্জিন দ্বারা প্রতিযোগীদের হারিয়ে দেয়া। যেমনঃ ন্যাচারাল নয় এমন লিংক করা; কনটেন্ট স্ক্র্যাপিং, সাইট হ্যাকিং।  

আপনার ইমেইলে বাংলায় ইন্টারনেট মার্কেটিং এবং এসইও রিলেটেড লেটেস্ট খবর ও আপডেট পেতে চান? সাবস্ক্রাইব করে রাখুন।

Leave a Comment

Share via
Copy link