আমরা জানি গুগল নিয়মিত তাদের এলগোরিদম আপডেট করে। একটা নতুন কিছু করার পর, তারা সেটা চেক করে যে সবকিছু ঠিক ঠাক আছে কি না।

যেমন ধরুন, গুগল কন্টেন্ট কোয়ালিটি উপর একটা আপডেট আনলো। এবং অনেকের ওয়েবসাইট এই আপডেটে ধরা খেলো। এবং ভালো ওয়েবসাইটগুলো টিকে গেলো প্রথম পাতায়, আর অপেক্ষাকৃত বাজে কন্টেন্টবেইজড সাইটগুলো পিছনে চলে গেলো।

এখন এই প্রসেসটা যে ঠিকঠাক হচ্ছে, সঠিকভাবে কাজ করছে; সেটা গুগল কিভাবে যাচাই করে?

গুগল কিভাবে বুঝে যে, যারা প্রথম পাতায় আছে তাদের কন্টেন্ট আসলেই ভালো এবং এইজন্যেই কন্টেন্ট এলগোরিদমটা এইসব সাইটকে এফেক্ট করে নাই?

এবং যেসব সাইট পিছনে চলে গেলো সেগুলোর কন্টেন্ট আসলেই ভালো না?

আপনার মনেও হয়তো এই প্রশ্নটা আসে মাঝেমধ্যে।

তো চলুন একটু জেনে নেয়া যাক।

গুগল আমার আপনার মতো সত্যিকারের মানুষজন নিয়োগ করেছে এই বিষয়টা পর্যবেক্ষণ করার জন্যে!

কি, বিশ্বাস  হচ্ছে না?

হয়তো প্রশ্ন করতে পারেন, পৃথিবীতে বিলিয়ন অব বিলিয়ন সাইট প্রতি বছর বানানো হচ্ছে। ট্রিলিয়ন অব সার্চ হচ্ছে। এইগুলো সাধারণ মানুষের পক্ষে ম্যানুয়ালি চেক করা সম্ভব?

আপনারা যারা স্ট্যাটিস্টিকস পড়েছেন, তারা নিশ্চয় “Sampling” শব্দটার মানে জানেন। এর মানে হচ্ছে, অনেকগুলো ডাটা থেকে র‍্যান্ডমলি কিছু ডাটা নিয়ে সেগুলাকে বিভিন্ন প্রসেসিং এর পর একটা ফাইনাল সিদ্ধান্ত দেয়া।

গুগলের নিয়োগ দেয়া মানুষগুলো আসলে এই স্যাম্পলিঙ করে থাকে প্রত্যেকটা ছোট ছোট আপডেট এর পর।

এই মানুষগুলোকে বলা হয় ” Search Quality Raters”.

এরা আসলে করে কি, একটা মেজর অথবা মাইনর গুগল এলগোরিদম আপডেট এর পর, র‍্যান্ডম বিভিন্ন কিওয়ার্ড দিয়ে গুগলে সার্চ করে এবং প্রথম পাতায় যেসব সাইটগুলো থাকে; সেগুলোকে নিয়ে এনালাইসিস করে।

তারপর তাদের ডাটাগুলো গুগল কাজে লাগায় তাদের পরবর্তী এলগোরিদম আপডেট এর উন্নতি এবং সার্চ ইউজারদের অপেক্ষাকৃত ভালো রেজাল্ট দেখানোর উদ্দেশ্যে। সেই সাথে তারা এটাও বুঝে যায় যে; তাদের প্রয়োগ করা সাম্প্রতিক এলগোরিদম আপডেটটা ঠিকঠাক কাজ করছে নাকি না।

এখন চলুন কাজের কথায় আসি।

আমরা সবাইতো SEO শিখতে চাই। ঠিক না?

আগে চুলুন জেনেনি গুগল কি কাজ গুলা অপছন্দ করে থাকে;

গুগল অটোমেশন পছন্দ করে :
গুগলের ওয়েব স্পেম টীম আছে। কিন্তু গুগল তাদের অটোমেশনকেই বেশি পছন্দ করে থাকে। গুগল মেশিন লার্নিংকে প্রাধান্য দিয়ে থাকে যাতে তারা সমস্যার সমাধান পায় ও বুঝতে পারে কি করে তা ঠিক করবে। তাই গুগল হাজার হাজার লোক রাখবে না তাদের এলগোরিদম ঠিক করার জন্য।

এক্সপায়ার্ড ডোমেইনের পিছনে টাকা না খরচ করা :
আপনি হয়তো নিজেকে অনেক স্মার্ট ভাবেন গুগল মেশিন লার্নিং থেকে কিন্তু আপনি জানেন কি শর্টকাট বলতে কিসু নাই। আপনি হয়তো মনে করছেন এক্সপায়ার্ড ডোমেইন কিনলেন gov বা edu আর আপনি অনলাইন ক্যাসিনো পেয়ে বসলেন? না, গুগল এলগরিদম আপনার থেকে অনেক বেশি চালাক তাই আপনি যদি ৩০১ রিডাইরেক্ট করেও এক্সপায়ার্ড ডোমেইন থেকে ব্যাকলিংক নেন তাহলে গুগল সহজেই বুজতে পারবে ও আপনাকে রাঙ্ক এর বাহিরে করে দিবে।

গুগল অনেক গেস্ট পোস্ট লিংক আমলে নেয় না :
আমরা জানি SEO তে গেস্ট পোস্ট অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন বড় বড় সাইট গুলাতে নো-ফলো লিংক পাবেন গেস্ট পোস্ট এর ক্ষেত্রে। যেমন: forbs, buzzfeed এমন কিছু সাইট আছে যে গুলায় গুগল গেস্ট পোস্ট কে আমলে নয় না।

আমরা যদি এই ” Search Quality Raters” দের কাজগুলো ঠিকমতো ফলো করতে পারি; তাহলেই কিন্তু আমাদের SEO শেখা হয়ে যায়। এবং সেই শিক্ষাটা হবে আপডেটেড, কার্যকরী এবং গুগল এপ্রোভড।

কিভাবে?

Search Quality Ratersরা আসলে যা যা দেখেঃ

১। যেই ওয়েবসাইটটা র‍্যাঙ্ক করেছে তার কন্টেন্ট কেমন?

২। মেইন কন্টেন্ট এর কোয়ালিটি কেমন?

৩। সাপোর্টিভ কন্টেন্টগুলোর কোয়ালিটি কেমন?

৪। হোমপেজের কি অবস্থা?

৫। ওই পেইজের ট্রাস্ট ফ্যাক্টর এবং অথরিটি (সহজ বাংলায় ব্যাকলিঙ্কস এর কোয়ালিটি)

৬। মোবাইলফ্রেন্ডলি কি না।

এইরকম আরো অনেক কিছুই।

এবং তারা সব কিছু চিন্তা করে, ইভালোয়েট করে একজন সাধারণ ইউজার হিসেবে।

সুতরাং আমরা যদি ভালো SEO শিখতে চাই; তাহলে আমরা সার্চ কোয়ালিটি রেটারদের কাছ থেকেই শিখে নিতে পারি যে, আমাদের ওয়েবসাইটকে গুগলে প্রথম পেজে আনতে কি কি জিনিস মাথায় রাখতে হবে এবং কোন কোন বিষয়কে সাইটে প্রয়োগ করতে হবে।

সিম্পল।

ইন্টারেস্টিং ব্যাপার হলো; এই Search Quality Ratersr রা কোন কোন ইস্যুগুলো দেখে তার উপর একটা পুর্নাঙ্গ গাইডলাইন গুগল তাদেরকে দিয়ে দেয়।  এবং সেটা গুগল পাবলিকলি ওপেনও করেছে।

এখন কিভাবে আগাবেন?

এই  এটাচ্ড ফাইলটাই সেই গাইডলাইন।

ডাউনলোড করে আজকেই পড়তে বসে যান।

একটা জিনিস ক্লিয়ার হবেন যে আমরা আসলে SEO নিয়ে কতো কম জানি।